Header Border

গাইবান্ধা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) ২৫°সে
শিরোনাম :
সাদুল্লাপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পরিবারের ঘরবাড়ি ভস্মিভূত, ১৮ লক্ষাধিক টাকা ক্ষয়ক্ষতি গাইবান্ধায় দইয়ের বাটি তৈরী করে সফলতা পেয়েছে মজিদা ও মহিদুল গাড়ী ধোয়া-মোছার কাজ করা শ্রমিকরাই চালক হয় : সভাপতি কাজী মকবুল হোসেন সাঘাটার রামনগর গ্রাম নদীভাঙন হতে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি সাদুল্লাপুরে তথ্য অফিসের উঠান বৈঠক   ৫ দফা দাবিতে গাইবান্ধায় ফারিয়ার কর্মবিরতি ও মানববন্ধন গাইবান্ধায় বিআরডিবির প্রশিক্ষণ সনদ, ঋণের চেক, গাছের চারা ও বীজ বিতরণ গাইবান্ধায় ডিডিবায়ো প্রোগ্রামের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সাদুল্লাপুরে তথ্য অফিসের সঙ্গীতানুষ্ঠান

গাইবান্ধায় ইরি-বোরোর রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে গাইবান্ধায় শুরু হয়েছে ইরি-বোরো চাষাবাদ। শীতে ইরি-বোরোর চারা নষ্ট হলেও রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ, শীতের কারণে মাঠে কাজ করতে বেশি টাকা চাচ্ছেন শ্রমিকরা। মৌসুমের শুরুতেই বেড়ে গেছে ধান চাষের উৎপাদন খরচ। খরচ বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী নেই কৃষকের ধানের দাম। বছর বছর উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাড়ে না ধানের দাম। উল্টো কমে যায়। এজন্য হতাশ কৃষকরা। তবে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, শীতের কারণে ইরি-বোরোর চারা নষ্ট হলেও সংকট হবে না। এবারও ইরি-বোরোর চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। শ্রমিক ও উৎপাদন খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ধানের দামও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাইবান্ধার সাত উপজেলায় পুরোদমে ইরি-বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ জমি চাষ দিয়ে প্রস্তুত করছেন, কেউ বীজ তুলছেন আবার কেউ চারা লাগাচ্ছেন। কৃষকরা জানিয়েছেন, জমি চাষ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকদের মজুরি ও সেচের পানিসহ সব কিছুর দাম বেশি। উৎপাদন খরচ অনুয়ায়ী ধানের দাম কম। গত বছর দুবার বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করে ভালো ফলন হলেও মেলেনি উপযুক্ত দাম। বাঁচার তাগিদে শীত ও সব খরচ উপেক্ষা করে ইরি-বোরোর চাষ করছেন কৃষকরা।

সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের বুরুঙ্গি গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ভালো ফলনের আশায় শীত ও উৎপাদন খরচ উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রম করছি আমরা। এরপরও ধান বিক্রির সময় উপযুক্ত দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এখন ধান চাষ করে উৎপাদন খরচই ওঠে না।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক আবু তালেব বলেন, ধান চাষ করে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার চালানো এখন খুবই কষ্টকর। কারণ সরকারিভাবে লটারিতে ধান কেনা হলেও ন্যায্য দাম পাই না আমরা। নির্দিষ্ট ধান চাষিদের তালিকা না করে একসঙ্গে সব কৃষক ও চাষির অংশগ্রহণে লটারি করা হয়। এতে বেশিরভাগ চাষি ধান বিক্রি থেকে বঞ্চিত হন।

সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের চাষি আব্দুল মমিন বলেন, হাড় কাঁপানো শীত আর কুয়াশাযুক্ত মাঠে কাজ করতে বেশি টাকা নিচ্ছেন শ্রমিকরা। প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের দাম ৮০০ টাকা, জমিতে সেচ দিতে খরচ ১৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা, বীজ বোপন, চারা রোপণ ও জমিতে চাষ দিয়ে অতিরিক্ত খরচ নেয়া হয়। বোরো মৌসুমের শুরুতেই বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। ধান কাটার সময় দেখা যাবে বাজারে দাম নেই। তখন আমাদের সব কষ্ট মাটি হয়ে যায়।

সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের কৃষিশ্রমিক মহব্বত আলী বলেন, শীত আর কুয়াশায় মাঠে কাজ করা অনেক কষ্টকর। সংসার চালানোর তাগিদে কাজ করতে হয়। তবে শ্রমিকদের দাম বেশি। আগের মতো শ্রমিক পাওয়া যায় না।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, এ বছর এক লাখ ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীতের কারণে ইরি-বোরোর চারা নষ্ট হলেও সংকট হবে না। এবারও ইরি-বোরোর চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, শ্রমিক ও উৎপাদন খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ধানের দামও। কাজেই কৃষকদের হতাশ না হয়ে বোরো চাষ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

সাদুল্লাপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পরিবারের ঘরবাড়ি ভস্মিভূত, ১৮ লক্ষাধিক টাকা ক্ষয়ক্ষতি
গাইবান্ধায় দইয়ের বাটি তৈরী করে সফলতা পেয়েছে মজিদা ও মহিদুল
গাড়ী ধোয়া-মোছার কাজ করা শ্রমিকরাই চালক হয় : সভাপতি কাজী মকবুল হোসেন
সাঘাটার রামনগর গ্রাম নদীভাঙন হতে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি
সাদুল্লাপুরে তথ্য অফিসের উঠান বৈঠক  

আরও খবর