Header Border

গাইবান্ধা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) ২৭.১৬°সে

ফুলছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচলে চরম বিপাকে মানুষ

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কেতকিরহাট বাজারের কাঠের সাঁকোটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন মানুষ। যে কোন মুহুর্তে সাঁকোটি ভেঙে যেতে পারে। এটি ভেঙে গেলে তিনটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের জেলা ও উপজেলা শহরে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

ফুলছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় (এলজিইডি) ও এলাকাবাসি জানায়, গত বছরের জুলাই মাসে বন্যার পানির স্রোতে কেতকিরহাট বাজারে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। এরফলে গাইবান্ধা-কঞ্চিপাড়া-কেতকিরহাট পাঁকা সড়কের কেতকিরহাট বাজারে প্রায় ৫০ ফুট অংশ ভেঙে যায়।

পরে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি ফুলছড়ি উপজেলার ঠিকাদার রাশেদ মিয়া বিচ্ছিন্ন হওয়া ওই সড়কে প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ও ৬ ফুট প্রস্থের একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করে দেন। এরপর থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকসা, রিকশা-ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে থাকে।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আর কোন মেরামত না করায় সাঁকোটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই সাঁকোর উপর দিয়ে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া, ফজলুপুর ও উড়িয়া ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ জেলা ও উপজেলা শহরে যাতায়াত করে থাকেন।

কেতকিরহাট গ্রামের ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকোটির উপর দিয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সাঁকোটির উপর দিয়ে চলাচলের সময় সাঁকোটি দোলে। সাঁকোর নিচের বাঁশ নষ্ট হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন মুহুর্তে সাঁকোটি ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

একই গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, ছোট মেয়েটি কেতকিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। কাঁঠের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় একা সে বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। তাই তাকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় সাঁকোটি পার করে দিয়ে আসি ও বিদ্যালয় ছুটি হলে সাঁকোটি পার করে আবার বাড়ীতে নিয়ে আসি। এতে করে আমার ব্যবসায়িক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।

উত্তর উড়িয়া গ্রামের কৃষক হায়দার আলী বলেন, জমিতে উৎপাদিত ধান, গম ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজি বাজারে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু সাঁকোটি বিধ্বস্ত হওয়ায় ৬ কিলোমিটার পথ ঘুরে গাইবান্ধা জেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বেশি টাকা পরিবহন খরচ দিতে হচ্ছে। অথচ কাঠের সাঁকোটির স্থলে মাটি দিয়ে ভরাট করা হলে এই সমস্যার সৃষ্টি হতো না।

একই গ্রামের কলেজছাত্র সেলিম মিয়া বলেন, সাঁকোটি মেরামত করা না গেলে চরম বিপাকে পড়তে হবে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তির শেষ থাকবে না।

এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ বলেন, সাঁকোরস্থলে সেতু নির্মাণের জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। একই বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সাঁকোরস্থলে সেতু নির্মাণে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

তাজিনা আখতার রাকা স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
সাদুল্লাপুরে শিশু-নারী উন্নয়নে উঠান বৈঠক
বিনা বেতনে ৩৩ বছর চাকরি, শিক্ষকতায় অবসরে প্রতিবন্ধী হাফিজার
বৈরী আবহাওয়ায় গাইবান্ধায় পানিতে ভাসছে ১২০০০ হেক্টর আমন ধান
বৈরী আবহাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত, স্থবির ব্যবসা বানিজ্য
বন্যায় ভাঙন সড়কে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করলো গ্রামবাসী

আরও খবর