Header Border

গাইবান্ধা সোমবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ ইং | ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) ২৫°সে

পলাশবাড়ীতে খাস জমি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের পায়তারা শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ

গত ৪ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার দৈনিক মাধুকর ও দৈনিক ঘাঘটসহ বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ‘পলাশবাড়ীতে খাস জমি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের পাঁয়তারার অভিযোগ’ শীর্ষক সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই সংবাদে উল্লেখিত সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য সম্পুর্ন উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও মিথ্যা।

প্রকৃতপক্ষে হবে- চলতি বছরের ১৬ মার্চ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামে ৯টি পরিবারকে ৩৭ শতাংশ খাস জমি ৯৯ বছরের জন্য কৃষি কাজের জন্য বরাদ্দ (লিজ) দেওয়া হয় ঠিকই কিন্তু তারা কখনোই সেই জমিতে ঘরবাড়ী তুলে ভোগদখল করেননি। কারণ ঘর তোলার অনুমোদন জেলা প্রশাসক দেননি। ওই জমিতে তারা শুধুমাত্র টিনের বেড়া দেন মাত্র। যা আজ অবধি সেরকমই আছে। এর কোন ব্যতয় ঘটেনি।

শুধু তাই নয়, গত ২৫ জুন ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী চক্র কর্তৃক ধারালো অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের বসতবাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের যে বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে সেটাও সম্পুর্ন মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে সেখানে তাদের কোন ঘরবাড়ীই নেই। এই হামলার ঘটনার কথা সম্পুর্ন বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। জমি বরাদ্দ পাওয়া পরিবারগুলোর প্রতি আজ অবধি কোন ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি। যা যে কোন ব্যক্তি সরেজমিনে বরাদ্দ পাওয়া জমিতে গিয়ে প্রত্যক্ষ করলেই বুঝতে পারবেন।

এছাড়া ওই সংবাদ সম্মেলনে ভূমিহীনদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদানসহ নানাভাবে হয়রানি করার কথাও বলা হয়েছে, যা সম্পুর্ন মিথ্যা। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট গভীর রাতে বাড়ীঘর ভাংচুর করে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এ ঘটনাটিও সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোনো এবং সম্পুর্ন উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

আর তাই আমরা ভগবানপুর গ্রামের জনগণ এই সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই সংবাদ সম্মেলনকারীরা প্রকৃত সত্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে না ধরে মিথ্যা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে এই জায়গায় জমি লিজ প্রাপ্তদের কোন বসতবাড়ীই নেই এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা বসবাসও করছেন না। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, জনগুরুত্বপূর্ণ এবং বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত এই জায়গাটি কৃষিকাজের জন্য ৯ জনকে বরাদ্দ (লিজ) দেওয়া হয়েছে। এই জায়গায় এখানো আছে পরিত্যক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, দাতব্য চিকিৎসালয় এবং কৃষি বøক সুপারভাইজারের বাসভবন এবং বট, পাকুর ও আমসহ পঞ্চাশোর্দ্ধো বয়সের ২৫টির মত গাছপালা।

শুধুমাত্র তাই না, এই জায়গাটি পরিদর্শন এবং এখানে সমাবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছিলেন মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ফলশ্রুতিতে এলাকাবাসির কাছে জায়গাটির মর্যাদা এবং গুরুত্ব অনেক।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, জায়গাটিকে বরাদ্দ (লিজ) দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসি এ ঘটনায় অত্যন্ত ব্যথিত এবং এই বরাদ্দ (লিজ) বাতিলের জন্য তাঁরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদনও দিয়েছেন। আবেদনে শুধুমাত্র ১২০০ এর অধিক এলাকাবাসিই স্বাক্ষর করেননি, এই আবেদনে সুপারিশ করেছেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আাওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দও।

আবেদনটির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছেন। যেখানে উল্লেখ আছে যে, “তিনি জায়গাটি কয়েকবার পরিদর্শন করেছেন এবং বন্দোবস্তপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণের সাথে বৈঠকও করেছেন। এলাকার গন্যমান্য এবং নেতৃবৃন্দও স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে তাঁকে অবগত করে স্থানটি সংরক্ষণের কথা বলেছেন। ঐতিহাসিক এই স্থানটি সংরক্ষণের প্রয়োজনে তিনি জমি লিজ প্রাপ্তদের সাথে বাববার টেলিফোনে যোগাযোগ করেছেন এবং এই জায়গার পরিবর্তে অন্য জায়গা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এছাড়াও তিনি সরকারের অন্যান্য সুবিধাদি- যেমন, দুর্যোগ সহনীয় ঘর, নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ ইত্যাদি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে সরকারিভাবে গৃহ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন”। কিন্তু বন্দোবস্ত গৃহীতাদের মধ্যে মাত্র একজন এই জমি ছেড়ে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত সস্মতি দিয়েছেন। বাকী ৮ জন অন্য জমি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষার্থে এই জমি বরাদ্দ (লিজ) বাতিলের সুপারিশ করেছেন এবং এই জায়গায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি হাসপাতাল অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্য সুপারিশ করেছেন। জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনের আলোকে বিধি মোতাবেক পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে এই বরাদ্দ বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনকারীরা বাতিলের এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য তাঁরা এই জমিতে বসবাস করছেন এবং তাদের উপর কয়েকজন এলাকাবাসী হামলা করেছে মিথ্যা দাবি করে জমিটির উপর আদালতের চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে। এলাকাবাসির পক্ষে আদালতকে জানানো হয়েছে যে, এই মামলা মিথ্যা এবং প্রকৃত সত্য জানার জন্য সরজমিন তদন্ত চাওয়া হইয়াছে।

সংবাদ সম্মেলনকারীদের বিরোধীতা সত্ত্বেও মহামান্য আদালত প্রকৃত সত্য জানার জন্য এলাকাবাসির সরেজমিন তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। আগামী সপ্তাহে আদালত থেকে এই জায়গা পরিদর্শনের জন্য পরিদর্শক আসবে। সার্বিক অবস্থা তাঁদের অনুকুলে নয় এটি বুঝতে পেরে তাঁরা সংবাদিকদের লিজ প্রাপ্ত জায়গায় না নিয়ে গিয়ে গাইবান্ধায় এসে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। সাংবাদিকদের নিকট অনুরোধ, আপনারা যে কোন সময় সরেজমিনে এসে প্রকৃত অবস্থা দেখে সংবাদ প্রকাশ করলে এলাকাবাসি উপকৃত হবে মর্মে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রতিবাদ করেছেন প্রফেসর ড. মো. লতিফুর রহমান সরকার।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

গরুর দল নিয়ে কোমর পানিতে কৃষক 
সুন্দরগঞ্জে বাঁধের ধারে সবজি চাষে ঝঁকছে কৃষক
ফলোআপ: সাদুল্লাপুর শহরের সড়ক দখলমুক্ত করতে ইউএনও’র নির্দেশ
সাদুল্লাপুরে তথ্য অফিসের উঠান বৈঠক ও সঙ্গীতানুষ্ঠান
সাদুল্লাপুরে ব্যবসায়ী-পরিবহনের দখলে সড়ক,  যানজটে দুর্ভোগ চরমে
সাদুল্লাপুরে বৈতের নামে ৫০ মণ মাছ নিধন,  ফের মাছ ধরার আহবান

আরও খবর