Header Border

গাইবান্ধা সোমবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ ইং | ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) ২২°সে

গাইবান্ধায় দইয়ের বাটি তৈরী করে সফলতা পেয়েছে মজিদা ও মহিদুল

মজিদা ও মহিদুলের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের আরিফ খাঁ গ্রামে। ২০১২ সালে মজিদা ও মহিদুলের বিয়ে হওয়ার পর কি কাজ করলে সংসারের আয়-উন্নিতি হবে সেই ভাবনাতেই তাদের কিছুদিন চলে যায়। ওই সালের শেষের দিকে মহিদুল চাকরির সন্ধানে গাজীপুর যান। অল্প কিছুদিন পরেই মহিদুল সেখানকার একটি মিষ্টির কারখানায় চাকরি নেন এবং সেখানেই কাজ করতে থাকেন।

এদিকে স্বামী গাজীপুরে চাকরি করলেও স্ত্রী মজিদা শ্বশুরবাড়িতে ভবিষ্যতের চিন্তা করতে থাকেন। অপরদিকে মহিদুল ২০১৫ সাল পর্যন্ত চাকরি করা অবস্থায় প্রিমিয়াম কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে ঘটনাক্রমে ঘনিষ্ঠতা হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি মহিদুলকে ৩ মাসের জন্য ভারতে মিষ্টির বাটি বানানোর ট্রেনিংয়ে পাঠান। ট্রেনিং শেষ করে গাজীপুরে আবারো মিষ্টির কারখানায় বেশ কিছুদিন চাকরি করার পর ২০১৭ সালে প্রিমিয়াম কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে দেখা করার পর তিনি মহিদুলকে নিজের দইয়ের বাটি তৈরীর কারখানায় চাকরি দেন।

এদিকে মহিদুলের স্ত্রী মজিদা গাইবান্ধার রামচন্দ্রপুরে টেরেডেস হোমস নেদারল্যান্ডস এর সহযোগিতায় এসকেএস ফাউণ্ডেশন বাস্তবায়নাধীন ইমেজ প্রকল্পের সদস্য হন এবং নিজের জীবন পরিবর্তনের জন্য অনেক বিষয়ের ওপর সচেতনতা লাভ করেন। ২০১৭ সালে ইমেজ প্রকল্পটি ইমেজ প্লাস প্রকল্প নামে আবারো নতুন আঙ্গীকে কাজ শুরু করে। ইমেজ প্লাস প্রকল্পে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসহ শিক্ষা, আয়মূলক কাজ এবং জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স নিয়ে কাজ শুরু করার পর সকল সদস্যের মাঝে আয়মূলক কাজে জড়িত হওয়ার একটা আগ্রহ বেশ ভালভাবেই লক্ষ্য করা যায়।

তাইতো মজিদা তার স্বামী মহিদুলের সঙ্গে পরামর্শ করতে থাকেন যে, কিভাবে দুজনেই আয়মূলক কাজের সাথে জড়িত হবেন। মহিদুলের যেহেতু ট্রেনিং আছে এবং দইয়ের বাটি তৈরী করার অভিজ্ঞতা ভালভাবেই অর্জিত হয়েছে তাই স্বামী-স্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন যে তারা দুজন মিলে নিজেরাই দইয়ের বাটি তৈরীর কারখানা দেবেন নিজের গ্রাম আরিফ খাঁ গ্রামে। এভাবেই ২০১৭ সালের শেষের দিকে মহিদুল নিজগ্রাম রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের আরিফ খাঁ গ্রামে চলে আসেন এবং জায়গা ঠিক করে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

দুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যে যাত্রা শুরু করেছিলেন সেখান থেকে আর পেছনের দিকে তাকাতে হয়নি এই দম্পতিকে। ১২ শতক জায়গার উপর দইয়ের বাটি তৈরীর কারখানা এখন বেশ ভালভাবেই চলছে। বিভিন্ন ধরনের বাটি তৈরী হয় এখানে যেমন: ১ কেজির বাটি, ১২’শ গ্রামের বাটি, ৮৫০ গ্রামের বাটি ইত্যাদি। এজন্য ১৫/১৬জন বেকার মানুষদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে কারখানার কাজে লাগিয়েছেন এই দম্পতি।

কারখানা ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি মাটি মিক্সিং করার মেশিন, জিগার মেশিন ও কয়েকটি টানিং মেশিন। করোনাকালে কিছুটা সংকটে পড়লেও বর্তমানে সে সংকট থেকে উঠে এসেছেন বলে জানান মহিদুল।

উল্লেখ্য, এই দইয়ের বাটি খুবই উন্নত এবং পাঠানো হয় ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নীলফামারী, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। নামে দইয়ের বাটি বলা হলেও এই বাটিতে খিরসা, রসমালাইসহ নানা জাতের মিষ্টি বাটিজাত করে বিক্রি হয়। বাটিগুলি খুবই উন্নতমানের ও উন্নত ডিজাইনের। বর্তমানে মজিদা ও মহিদুল মাসে প্রায় লক্ষ টাকা আয় করেন এই দইয়ের বাটি তৈরীর কারখানা থেকে। মজিদা ও মহিদুলের সংসারে মহিদুলের বাবা-মা তো আছেন সেই সাথে তাদের দুই ছেলেকে নিয়ে সুখেই আছে তারা সফলতার পথ ধরে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

গরুর দল নিয়ে কোমর পানিতে কৃষক 
সুন্দরগঞ্জে বাঁধের ধারে সবজি চাষে ঝঁকছে কৃষক
ফলোআপ: সাদুল্লাপুর শহরের সড়ক দখলমুক্ত করতে ইউএনও’র নির্দেশ
সাদুল্লাপুরে তথ্য অফিসের উঠান বৈঠক ও সঙ্গীতানুষ্ঠান
সাদুল্লাপুরে ব্যবসায়ী-পরিবহনের দখলে সড়ক,  যানজটে দুর্ভোগ চরমে
সাদুল্লাপুরে বৈতের নামে ৫০ মণ মাছ নিধন,  ফের মাছ ধরার আহবান

আরও খবর