Header Border

গাইবান্ধা মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ৩০°সে
শিরোনাম :
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে গাইবান্ধায় বন্যার্তদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি কোরবানি কর্মসূচির মাংস পেল গাইবান্ধার ২১০০ হতদরিদ্র পরিবার গাইবান্ধায় এসএসসি ০২ ব্যাচের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ঈদের কাপড় বিতরণ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজরিত জায়গার লিজ বাতিল করে সংরক্ষণের দাবি গরু ফিরিয়ে দিয়ে গরীবের মুখে হাসি ফোটালো গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ পিবিআইয়ের প্রেস ব্রিফিং : গাইবান্ধা সদর ও সাদুল্লাপুরের চাঞ্চল্যকর দুটি ধর্ষণ মামলায় আসামী গ্রেপ্তার  চার মাস বেতন বন্ধ :মানবেতর জীবনযাপন করছেন রংপুর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা ২৫০০ টাকার তালিকা : গাইবান্ধা সদর উপজেলায় গিয়ে রামচন্দ্রপুরের তালিকায় নতুন নাম সংযুক্ত হয়েছে গোবিন্দগঞ্জে প্রেমিকের সাথে পালানোর সময় গণধর্ষণের শিকার প্রেমিকা, প্রেমিকসহ ৬জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঘরবন্দি সময় কাটান ইবাদত ও নেক আমলে

করোনা বিপর্যয়ে মানব জাতি এখন দুঃখ ভারাক্রান্ত। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে দুনিয়াজুড়ে মৃতের সংখ্যা ২১ হাজার ৩০৪ জন। বৈশ্বিক এই মহামারীতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৮টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। করোনার হুমকি থেকে বাঁচতে বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটি মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশেও মানুষকে হোম কোয়ারেন্টাইন বা ঘরবন্দি থাকার জন্য শুরু হয়েছে ১০ দিনের ছুটি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, করোনাভাইরাসের আঁচড় মানব জীবনে গভীর প্রভাব সৃষ্টি করবে। বেকারত্ব ও দেউলিয়াত্ব মোকাবিলা একটি দীর্ঘস্থায়ী বিষয় হয়ে উঠতে পারে। এই সমস্যা এখন বিশ্ববাসীর। তাই জীবনযাপনে অযাচার ও অনাচারমুক্ত হয়ে সময়কে সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সবার জন্য নতুন এক সভ্যতা বিনির্মাণের অভিযাত্রী হতে হবে এখন মানব জাতিকে।

এ রোগের প্রতিষেধক এখনো উদ্ভাবিত হয়নি। তবে এ থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিশেষজ্ঞরা একটিমাত্র রাস্তা খুঁজে পেয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভালো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং পৃথককরণ বা অন্যের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অনুশীলন হলো- কভিড-১৯ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আমরা এটিকে বলছি, ‘সামাজিক বিচ্ছিন্নতা’ বা ‘সামাজিক দূরত্ব’ সৃষ্টি। একে অপরের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। সরকারগুলো মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করছে। পুরো দেশ লকডাউন করছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী নামিয়ে নিশ্চিত করছে, যাতে মানুষ অকারণে ঘরের বাইরে না আসতে পারে। তাই সবাই নিজ নিজ ঘরে থাকুন। ঘরে থাকাকে কোনো শাস্তি মনে না করে নিয়ামত ও জীবনের জন্য উপকারী বিষয় বলে ভাবুন।

এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, একবার হজরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা মহামারী সম্পর্কে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর নবী জবাবে বললেন, ‘এটা আল্লাহর শাস্তি। তিনি যাদের ওপর ইচ্ছা এটা প্রেরণ করেন। তবে তিনি মুমিনদের জন্য একে রহমত বানিয়ে দেন। কেননা, আল্লাহতায়ালা ভাগ্যে যা লিখেছেন তার বাইরে কোনো কিছু আক্রান্ত করবে না এ বিশ্বাস মনে ধারণ করে ধৈর্যের সঙ্গে সওয়াবের আশায় মহামারী আক্রান্ত এলাকার যে মুমিন নিজের ঘরে অবস্থান করবে সে শহীদের সমান সওয়াব পাবে।’-সহিহ বোখারি: ৩৪৭৪

বর্ণিত হাদিস থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, মহামারী দেখা দিলে বিশ্বাস ও ধৈর্যের সঙ্গে ঘরে থাকতে হবে। সেই সঙ্গে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন, চিকিৎসা গ্রহণ ও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ মোতাবেক চলতে হবে। তবে কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য কর্মহীনভাবে একটানা কয়েক দিন ঘরে বসে থাকা ক্লান্তিকর বিষয়। এ ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই অনেক কিছু করবেন। আপনি একজন মুমিন-মুসলমান হিসেবে এমন কিছু করার পরিকল্পনা করুন- যা আপনার সময়কে করে দেবে মূল্যবান। এই সময়টুকু ভালোকাজে ব্যয় করার চেষ্টা করতে হবে।

তাই এই অবসর সময়ে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এ কয়দিন ঘরে থেকে কোনো গোনাহের কাজ করব না। যা দেখলে, করলে ও শুনলে গোনাহ হয়- এমন কোনো কিছু করব না। যেহেতু ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ, তাই এই পুরো সময় পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে কাটাব। ঘরের কাজে স্বামী, স্ত্রী, সন্তান সবাই সবাইকে সহায়তা করবে। সন্তানদের পড়াশোনার তদারকি করার পাশাপাশি নিজের আত্মিক উন্নতি সাধনে চেষ্টা করতে হবে। পরনিন্দা ও গুজব ছড়াব না। নিজের দুর্বলতা এবং কুপ্রবৃত্তিগুলোকে চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করব।

এই কয়দিন বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করে সময় কাটানো যেতে পারে। পারলে কোরআন খতম করার চেষ্টা করা, সেই সঙ্গে নিভর্রযোগ্য কোনো আলেমের কৃত অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির পাঠ করা। আজ (শুক্রবার) থেকে শুরু হচ্ছে, বরকতময় শাবান মাস। এমনিতে শাবান মাসের নফল রোজা অনেক ফজিলতের। আর এখন যেহেতু বাইরের কোনো ঝামেলা নেই, তাই নফল রোজা পালনের চেষ্টা করা।

হাদিসে বলা হয়েছে, এসব আমল বালা-মসিবত দূর করতে সহায়ক। চলমান দুর্দিন শেষ হওয়া ও বিপদ থেকে মুক্তির জন্য বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করা। নবী জীবনী পাঠ করা। মসজিদে যাওয়ার সমস্যার কারণে বাসায় একা একা নামাজ না পড়ে বাসার সবাইকে নিয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়া যেতে পারে।

এভাবে অবসর সময়টাকে কাজে লাগানো। মনে রাখবেন, প্রতি মুহূর্তে মানুষ তার চূড়ান্ত গন্তব্যের (মৃত্যু) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সময় আর ফিরে আসবে না। তাই আসুন, আল্লাহতায়ালা যেভাবে বলেছেন- সেভাবে সময়ের সদ্ব্যবহার করি। কোরআনে কারিমে এ বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘সময়ের কসম! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিপতিত। তবে তারা ছাড়া যারা ইমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।’ -সুরা আল আসর: ১-৩

লেখক : শাহীন হাসনাত, মুফতি ও ইসলামবিষয়ক লেখক

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে গাইবান্ধায় বন্যার্তদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি
কোরবানি কর্মসূচির মাংস পেল গাইবান্ধার ২১০০ হতদরিদ্র পরিবার
গাইবান্ধায় এসএসসি ০২ ব্যাচের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ঈদের কাপড় বিতরণ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজরিত জায়গার লিজ বাতিল করে সংরক্ষণের দাবি
গরু ফিরিয়ে দিয়ে গরীবের মুখে হাসি ফোটালো গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ

আরও খবর