Header Border

গাইবান্ধা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) ২৭.১৬°সে

এক যুগ ধরে পাঠাগার বন্ধ, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে নষ্ট হচ্ছে বই 

বাদল হোসেন :

জনবল সংকটের অজুহাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা শহরের পৌর পাঠাগারটি এক যুগ ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে পাঠাগারে থাকা কয়েক হাজার বই নষ্ট হয়ে হচ্ছে। বিদ্যানুরাগী মানুষ বই ও পত্রিকা পাঠ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই অতিদ্রুত পৌর পাঠাগারটি চালু রাখার দাবি করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।

পীরগঞ্জ পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকতো পাঠাগার। সকালে তেমন কোন পাঠক না আসলেও বিকেল থেকেই পাঠাগারে ভীড় জমাত বই প্রেমীদের। নাটক, গল্প, কবিতাসহ বিভিন্ন গুনিজনের জীবনী এবং রাজনৈতিক বইয়ের প্রতি পাঠকের আকর্ষন ছিল বেশি। স্কুল-কলেজের ছেলে মেয়েরা আসতো দল বেধে। এখন আর সে সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পাঠাগারের দরজা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বর্তমানে পাঠাগারটি আশেপাশেই যায় না কেউ। দরজা জানালায় ঘুন ধরেছে। ভেতরে নষ্ট হচ্ছে কয়েক হাজার মুল্যবান বইসহ আসবাবপত্র। বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই।

পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা সুত্রে আরও জানা যায়, শহরের পাবলিক ক্লাব চত্বরে ১৯৮৬ সালে পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের তত্তাবধানে এই পাঠাগার স্থাপন করা হয়। তৎকালিন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আবুল হাসনাত মোজাফ্ফর করিম পাঠাগারটি উদ্বোধন করেন। তখন থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের তত্তাবধানে ভালভাবেই চলে পাঠাগারটি। নতুন নতুন বইও কেনা হয়। এরপর ১৯৮৯ সালে পীরগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হলে পাঠাগারটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ সেখানে আকতারুল ইসলাম নামে একজনকে সহকারি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে নিয়োগ দেন। ২০০৬ সালে তার মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে যায় পাঠাগারের দরজা।

এভাবেই কেটে যায় কয়েক বছর। এ সময় পাঠাগারের দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ আলমারি ঘুনে ধরে। নষ্ট হয় অনেক বই। এরপর পাঠচক্র নামে একটি সংগঠন পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে কয়েক বছর আগে পাঠাগারটি আবারো চালু করার ব্যবস্থা করেন। সংস্কার কাজও করা হয়। পৌরসভার একজন কর্মচারীকে প্রেষনে এখানে দায়িত্ব দেওয়া হয় কিন্তু তা বেশি দিন টিকেনি। কর্মচারি সংকট অজুহাতে কয়েক মাসের মাথায় তাকে আবারো পৌরসভায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আবারো তলা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় পাঠাগারের দরজায়। ফলে এক যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে জ্ঞান অর্জনের এ বাতিঘড়টি। এখন এর বারান্দা এবং আশেপাশে ঝালাইয়ের কাজ করা হয়। স্তুপ করে রাখা হয়েছে লোহা লক্কর। ভেতরে অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে মুল্যবান কয়েক হাজার বই।

একটি সুত্র জানায়, পাঠাগারটিতে নাটক, কবিতা, গল্প ও রাজনৈতিক দর্শনসহ বিভিন্ন প্রকার বই রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার।

উপজেলা উদীচীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলার সরকার বলেন, পাঠাগারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বই পড়ার অভ্যাসটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বই পড়ার মত তেমন কোন পাঠাগারও নেই, পরিবেশও নেই।

পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুল হক বলেন, এক সময় পাঠাগারটি জমজমাট ছিল। সেখান থেকে বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করা হতো। এখন সে সুযোগ নেই। অনেক অনুরোধ করে পাঠাগারটি চালু করা হলেও কেন জানি বন্ধ হয়ে গেল। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। তবে অচিরেই এটি পুনরায় চালু করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র কশিরুল আলম বলেন, পাঠাগারটি পরিচালনা করার মত কোন জনবল নেই। তাছাড়া ডিজিটাল যুগে পাঠাগারে বসে বই পড়ার মত লোক খুবই কম আছে। তাই বন্ধ রয়েছে। সুযোগ হলে আগামীতে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র।

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি/রআপা/

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটালো উত্তরবঙ্গ ফেসবুক গ্রুপ
তাজিনা আখতার রাকা স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
সাদুল্লাপুরে শিশু-নারী উন্নয়নে উঠান বৈঠক
বিনা বেতনে ৩৩ বছর চাকরি, শিক্ষকতায় অবসরে প্রতিবন্ধী হাফিজার
বৈরী আবহাওয়ায় গাইবান্ধায় পানিতে ভাসছে ১২০০০ হেক্টর আমন ধান
বৈরী আবহাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত, স্থবির ব্যবসা বানিজ্য

আরও খবর