Header Border

গাইবান্ধা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) ২৮.৬°সে
শিরোনাম :
সাদুল্লাপুরে শিশু-নারী উন্নয়নে উঠান বৈঠক বিনা বেতনে ৩৩ বছর চাকুরি, শিক্ষকতায় অবসরে প্রতিবন্ধী হাফিজার বৈরী আবহাওয়ায় গাইবান্ধায় পানিতে ভাসছে ১২০০০ হেক্টর আমন ধান বৈরী আবহাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত, স্থবির ব্যবসা বানিজ্য বন্যায় ভাঙন সড়কে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করলো গ্রামবাসী বৈরী আবহাওয়ায় গাইবান্ধায় আমন ধানসহ ফসলাদির ক্ষতির আশঙ্কা হাতির পিঠে ই-সেবার প্রচারণা সাদুল্লাপুরের সেই কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিনকে অবশেষে অব্যাহতি সাদুল্লাপুরে ঘর ও সোলার দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সাদুল্লাপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পরিবারের ঘরবাড়ি ভস্মিভূত, ১৮ লক্ষাধিক টাকা ক্ষয়ক্ষতি

জেদের বশে কেক বানিয়ে সফল নারী উদ্যোক্তা আঞ্জু

নারীরা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। সমাজের সবক্ষেত্রে তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত হচ্ছে। তারা নানা প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তেমনি বাসায় কেক বানিয়ে এখন সফল উদ্যোক্তা গাইবান্ধা পৌরসভার মাস্টার পাড়ার আঞ্জুমান আরা চৌধুরী।

তার এ কাজে নামার পেছনের ঘটনাটা বেশ মজার। ২০১৬ সালে ছোট মেয়ে জিনাত আজাদ জুমার জন্মদিন উপলক্ষে গাইবান্ধা পৌরসভার কলেজ পাড়ার একটি দোকানে কেক অর্ডার করেন আঞ্জু। দোকানদার সঠিক সময়ে কেক সরবরাহ করতে না পারায় মেয়ের জন্মদিন প্রায় ভেস্তেই যাচ্ছিলো। তারপরও সেবার কেক ছাড়াই মেয়ের জন্মদিন পালন করতে হয়েছিলো তাকে। তখনই কেক তৈরির বিষয়টি আঞ্জুর মাথায় আসে। পরবর্তীতে স্বামী ও বন্ধুদের সহয়োগিতায় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে বাসায় কেক বানানোর কাজ শুরু করেন তিনি।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, আঞ্জুমান সবার কাছে আঞ্জু নামেই পরিচিত। স্বামী সাঈদ আহমেদ আজাদ জয়, দুই মেয়ে মিহদা জান্নাত ও জিনাত আজাদ জুমা এবং ছেলে ইবাদত বিন সাঈদকে নিয়েই সংসার আঞ্জুর। সাঈদ আহমেদ আজাদ জয় পেশায় আইনজীবি। আর ছেলে-মেয়েরা স্কুলে পড়ছে।

আঞ্জু বলেন, শুরুটা আসলে জেদের বশেই হয়েছিল। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা থাকলেও আমার মনে হয় যে ঘরে বসে থাকার চেয়ে কিছু করাটা ভালো। সেই চিন্তা থেকেই আসলে আমার কেক বানানো শুরু। ঢাকায় গিয়ে কেক তৈরি শিখি। তারপর প্রথমে আশেপাশের দু-একটি জায়গায় কেক দেই। সেখান থেকে বেশ ভালো সাড়া পাই। দেখা যায় যে ক্রেতাদের চাহিদা বেশ ভালো এবং তারা খাওয়ার পর অনেক প্রশংসাও করতেন।

ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রশংসা দেখে আমার মনোবল এবং কাজ করার আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। আমার বানানো বিভিন্ন রকম কেক দেখতে যেমন আকর্ষনীয় তেমনি খেতেও অনেক সু-স্বাদু। আমার বানানো কেক মানসম্মত কেক হওয়ায় খুব অল্প সময়েই অনেক জনপ্রিয়তা পায়। অর্ডার মোতাবেক নিখুঁতভাবে এবং সঠিক সময়ে ডেলিভারি দিতাম কেক। এতে আমার পরিচিতি বাড়তে থাকে, পাশাপাশি বেশ অর্ডারও পেতে শুরু করি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্ডার এবং কাজের প্রসার হতে থাকে।

আঞ্জু আরও বলেন, ২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে আমি ব্যবসার কার্যক্রম শুরু করি। বর্তমানে ব্যবসার পরিসর খুব বেশি না হলেও অল্প সময়ের মধ্যে অনেক ভালো পর্যায়ে আসতে পেরেছি। দিনদিন ব্যবসার পরিসর বাড়ছে। বর্তমানে আমি অর্থনৈতিকভাবে বেশ সাবলম্বী।

গাইবান্ধা মাষ্টার পাড়ার আঞ্জুমান আরা চৌধুরী এখন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজের পরিশ্রমই তার এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। পথে পথে নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়েছে আঞ্জুকে। তবে কখনোই দমে যাননি তিনি। নিজের মেধা, মননশীলতা, কর্মনিষ্ঠা এবং একাগ্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

এখন প্রতিনিয়ত নরমাল ভ্যানিলা, নরমাল চকলেট, চকোলেট ভ্যানিলা, ব্লাক ফরেষ্ট, রেড ফরেষ্ট, রেড ভেলভেট কেক, পিজ্জাসহ বিভিন্ন খাবার তৈরি করছেন তিনি।

আঞ্জু বলেন, “ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। সাহস আর কাজ করার মনমানসিকতা থাকলে ব্যস্ততার মাঝেও কাজ করা সম্ভব। সংসার, সন্তানদের লেখাপড়া ও বাবা-মাকে সময় দেয়ার পরও কেক বানানোর কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সহযোগিতা ও উৎসাহ পাওয়ার কারণে আমার কাজ করার ইচ্ছা আরো বেড়ে যায়। প্রতিটি কাজে আমার স্বামী ও বন্ধুরা আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। সব সময় তারা আমার পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন। তাদের সহযোগিতায় আজ আমি এই জায়গায় আসতে পেরেছি।

গাইবান্ধার সার্কুলার রোডের মাস্টার পাড়ায় পালস ক্লিনিকের সামনে ‘আনজু’স কিচেন’ নামে আমার নিজস্ব শোরুম আছে। আমি চাই আমার ব্যবসার আরো প্রসার হোক। আমার ইচ্ছা, দেশের প্রতিটি জেলায় যেন আমি শোরুম দিতে পারি এবং নারীর কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারি।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

সাদুল্লাপুরে শিশু-নারী উন্নয়নে উঠান বৈঠক
বিনা বেতনে ৩৩ বছর চাকুরি, শিক্ষকতায় অবসরে প্রতিবন্ধী হাফিজার
বৈরী আবহাওয়ায় গাইবান্ধায় পানিতে ভাসছে ১২০০০ হেক্টর আমন ধান
বৈরী আবহাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত, স্থবির ব্যবসা বানিজ্য
বন্যায় ভাঙন সড়কে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করলো গ্রামবাসী
বৈরী আবহাওয়ায় গাইবান্ধায় আমন ধানসহ ফসলাদির ক্ষতির আশঙ্কা

আরও খবর